শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
৭৮ বছরের কোচ, তিন দেশকে বিশ্বকাপে নেওয়ার রেকর্ড
কুরাসাওর প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাতের বয়স ৭৮ বছর। তিনি হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ। ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং এবার কুরাসাও—তিনটি ভিন্ন দেশকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম কোচও তিনি। এটিও নতুন এক রেকর্ড।
অন্যদিকে জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান মাত্র ৩৮ বছর বয়সী। তাই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক ও তরুণ কোচের লড়াইও দেখা যাবে এই ম্যাচে।
মেয়ের অসুস্থতার কারণে বিশ্বকাপের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন অ্যাডভোকাত। তার জায়গায় দায়িত্ব নেন ফ্রেড রুটেন। কিন্তু দলের ছন্দ নষ্ট হয়। অস্ট্রেলিয়া ও চীনের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হারের পর রুটেনও পদত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত পরিবার ও দল..দুই দিক সামলে আবারও দায়িত্বে ফেরেন অ্যাডভোকাত। ১৮ মে ঘোষণা করেন চূড়ান্ত দল।
২০১৪ সালের সেই ৭ গোলের রাত
২০১৪ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তে। সেমিফাইনালে নিজেদের মাঠে জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। সমর্থকদের বিশ্বাস ছিল, ঘরের মাঠে ফাইনালে যাবে সেলেসাওরা। কিন্তু সেদিন যা ঘটেছিল, তা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো রাত হয়ে আছে।
মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে ৫ গোল করে জার্মানি। ম্যাচ শেষ হয় ৭-১ গোলে। টমাস মুলার করেন হ্যাটট্রিক। সেই টুর্নামেন্টে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। মারিও গোটজের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপ জেতে তারা।
তবে এরপরের দুই বিশ্বকাপে, ২০১৮ ও ২০২২ সালে, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে। এবার নতুন দল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান।
কুরাসাওর অস্ত্র শৃঙ্খলা ও তাহিত চং
কুরাসাও দলে ৪০ জনের বেশি খেলোয়াড়ের জন্ম বা বেড়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসে। তাদের অনেকেই ডাচ লিগে খেলেন। অ্যাডভোকাতের কৌশলও সরল—নিচু ব্লকে ৪-৪-২ ফরমেশনে রক্ষণ মজবুত রাখা এবং সুযোগ পেলেই কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া।
দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম তাহিত চং। শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন। ইংলিশ ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তার। নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলার পরও তিনি কুরাসাওর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
ফিফার নিয়ম মেনেই নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা ডাচ বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে টেনেছে কুরাসাও। বিশ্বকাপের আগে আরও পাঁচজন ডাচ খেলোয়াড় কুরাসাওর হয়ে নাম লিখিয়েছেন।
চমকের স্বপ্ন দেখাটাই তো বিশ্বকাপ
কাগজে-কলমে জার্মানি অনেক এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তারা ১০ নম্বরে, কুরাসাও ৮২তম। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঠে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে ড্রয়ে আটকে দিয়েছিল। ২০২২ সালে সৌদি আরব হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ছিটকে দিয়েছিল জার্মানিকেই।
ফুটবলে ছোট দলের জয়গল্প নতুন নয়। কুরাসাওর কাছে বিশ্বকাপে শুধু খেলাটাই বড় প্রাপ্তি নয়। দেড় লাখ মানুষের একটি দ্বীপ যদি জার্মানির বিপক্ষে একটি গোলও করতে পারে, সেটিও হবে তাদের ইতিহাসের বড় মুহূর্ত। পুরো দ্বীপ এখন সেই অপেক্ষাতেই।
কোচ ডিক অ্যাডভোকাত গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা জানি জার্মানি কত শক্তিশালী। কিন্তু আমরাও প্রস্তুত। আমার খেলোয়াড়রা কখনো হাল ছাড়ে না।’
সেই না-ছাড়ার গল্পই ১৪ জুন হিউস্টনে লিখতে চাইবে কুরাসাও। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার উচ্চারিত হবে তাদের নাম। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে দেড় লাখ মানুষের সেই ছোট্ট দেশ।