শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা, জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি লালনশিল্পী ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করেছে সুহৃদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ফরিদা পারভীনের হাতে গড়া সংগঠন অচিন পাখি সংগীত একাডেমির আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। অচিন পাখি সংগীত একাডেমির অধ্যক্ষ গাজী আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, কিংবদন্তি গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন, নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে ফরিদা পারভীন লালনসংগীতকে প্রচার ও প্রসার করেছেন। কোনো সরকারই ফরিদা পারভীনকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন নি। সব সরকার সব শিল্পীদেরকে সম্মান করবে এটাই আমার আহবান। অনেকেই লালন ফকিরের গানকে বাউল গান হিসেবে চর্চা করেন, যেটা একেবারেই অনুচিত। লালনকে গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ ও লালন করতে পেরেছেন বলেই সারাবিশ্বে ফরিদা পারভীন সমাদৃত। তার সৃষ্টি তাকে মৃত্যুর পরেও অমর করে রেখেছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে জাসাসের আহবায়ক ও চিত্রনায়ক হেলাল খান বলেন, “ফরিদা পারভীন কেবল একজন শিল্পী নন—তিনি আমাদের লোকসংগীতের জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর কণ্ঠে বাংলার মাটি, মানুষ আর আবেগ কথা বলে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর গান শুনে লোকসংগীতকে ভালোবাসতে শিখেছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফরিদের পারভীনের গান শুনতেন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে ফরিদা পারভীনের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সৃষ্টিগুলো আমাদের সংস্কৃতির শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছে। আগামীতে ফরিদা পারভীনের স্মরণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম করবেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, যুগ্ন আহবায়ক আহসানউল্লাহ চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী হাসান চৌধুরীসহ প্রমুখ।
পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে যন্ত্রসংগীত ও কণ্ঠসংগীতে অংশ নেয় অচিন পাখি সংগীত একাডেমির শিক্ষার্থী শিল্পীরা।