মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য বিবেচনায় নিয়েই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই লক্ষ্য থেকেই বিএনপি নারী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে আনতে কাজ করছে।
ঘোষিত তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত। বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেও জানা যায়। মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন দৃঢ় ও জনমুখী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিমা রহমান ছাড়াও তালিকায় স্থান পাওয়া অন্য মনোনীতদের মধ্যেও রয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা নেত্রীরা, যারা নিজেদের কর্মদক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিএনপি মনে করছে, এই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেত্রীদের সংসদে পাঠানোর মাধ্যমে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত প্রার্থীরা সংসদে গিয়ে শুধু তাদের নিজ নিজ এলাকার নয়, বরং সারাদেশের নারীদের অধিকার ও উন্নয়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই পদক্ষেপ নারী নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে দলটি একদিকে যেমন সংগঠনকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি ও প্রভাব আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া দলীয় নেতারা মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আস্থাও বৃদ্ধি পাবে। তারা বলেন, এই মনোনয়ন শুধু একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও মনোনীত প্রার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং তাদের সফলতা কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত নারীনেত্রীরা সংসদে গিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।