রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্মিত সেচ প্রকল্প ও স্লুইসগেটগুলো অচল হয়ে পড়ায় কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। একসময় কৃষকের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই অবকাঠামো বর্তমানে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যকারিতা হারিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দুই ধাপে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয় এই সেচ প্রকল্প। তখন স্থাপন করা হয় প্রায় ১০টি সেচ পাম্প ও অর্ধশতাধিক স্লুইসগেট, যা খাল থেকে পানি তুলে কৃষিজমিতে সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও জনবল সংকটে বর্তমানে অধিকাংশ স্লুইসগেট ও সেচ পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অনেক গেট ভেঙে গেছে, আবার অনেকগুলো সম্পূর্ণ বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে পুরো পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সেচের পানি না পাওয়ায় রবি শস্য ও বোরো ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আগে এই গেটগুলো আমাদের অনেক উপকার করত। এখন এগুলোই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পানি পাই না, আবার অতিরিক্ত পানিতেও ফসল নষ্ট হয়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক সেচ পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে, আবার অনেক স্থাপনা পরিত্যক্ত হয়ে অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটরদের অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে এ অঞ্চলে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল দ্রুত সময়ের মধ্যে স্লুইসগেট ও সেচ পাম্পগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা সংবাদের বলেন,স্লুইস গেটের সমস্যাগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়েছে সংস্কার হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল বলেন , স্লুইসগেটের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে সংস্কার অথবা পূণ্য নির্মাণের পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।