রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দেশে অরাজক সৃষ্টির পায়তারা চলছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরের নাগরিক সমস্যা সমাধানে হাউজিংগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে : ববি হাজ্জাজ বৈধ উৎস থেকে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে রাজউকের কর্মকর্তাদের টিম হিসেবে কাজ করতে হবে’: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দুদকে লিখিত অভিযোগে চাঞ্চল্য:
কোচিং ও ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু কোরবানির আগে চাঙ্গা রেমিট্যান্স, ২০ দিনে এলো ৩২ হাজার কোটি টাকা স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্নভাবে চিকিৎসকদের টার্গেট করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব : মির্জা ফখরুল
খেলাপি ঋণ হ্রাস, রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
অগ্রণী ব্যাংকের দৃঢ় অগ্রযাত্রা

খেলাপি ঋণ হ্রাস, রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
অগ্রণী ব্যাংকের দৃঢ় অগ্রযাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক। খেলাপি ঋণ হ্রাস, আমানত ও পরিচালন মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন— ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার একটি ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে।
ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ৯৯,২৩২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৩,০৬৪ কোটি টাকায়। এক বছরে আমানত বেড়েছে ১৩,৮৩২ কোটি টাকা, যা গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঋণ ও অগ্রিম খাতেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ খাতের পরিমাণ ছিল ৭৯,০৩৭ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০,৫৭৩ কোটি টাকায়। যদিও এই প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণের কৌশলই এর পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিচালন মুনাফার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে ১,৫১১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫০২ কোটি টাকায়, যা প্রায় ৯৯১ কোটি টাকা বেশি। এই প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ এবং কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।
খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ব্যাংকের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২,০০২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২৮,৬১৬ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৪০.৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৫.৫২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৪.৯৭ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস নির্দেশ করে। এই অগ্রগতি ব্যাংকটির কঠোর মনিটরিং, আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রাহকভিত্তিক সমাধান কৌশলের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট আদায় দাঁড়িয়েছে ১০,২৩৪ কোটি টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল মাত্র ১,৭২৬ কোটি টাকা। নগদ আদায় (সিডিউল ও অবলোপন মিলিয়ে) বেড়ে ১,০৯২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
রেমিট্যান্স প্রবাহে অগ্রণী ব্যাংক বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে ২১,০৩৩ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩,৯৬১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২,৯২৮ কোটি টাকা। প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈদেশিক বাণিজ্য খাতেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমদানি বেড়ে ৫০,৫৮৮ কোটি টাকা থেকে ৫৪,৩৬৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে রপ্তানি কিছুটা কমে ১৪,১১৪ কোটি টাকা থেকে ১৩,২৫২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ঋণ। অগ্রণী ব্যাংক যেভাবে এটি কমাতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন,সরকার ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ, আইনি প্রক্রিয়া জোরদার এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে চাই।
চেয়ারম্যান বলেন,“অগ্রণী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ হ্রাস, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক ও টেকসই ব্যাংক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রাহকদের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতেও এই আস্থা ধরে রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে অগ্রণী ব্যাংক।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,“আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। ঋণ পুনঃতফসিল, নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা ঋণ আদায়ে সফল হয়েছি। একই সঙ্গে একটি টেকসই ও শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান,“রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রবাসীদের আস্থা অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা, কম খরচে অর্থ পাঠানোর সুবিধা এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও সহজ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি—এই দুই ক্ষেত্রেই অগ্রণী ব্যাংকের সাফল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026 shadhindiganta.com
কারিগরি সহযোগিতায়: